বাজিগর পাখির সফট ফুড(Soft Food) বানানোর সঠিক উপায়

Post by

আজকে আমরা আমাদের ব্লগ পোস্টটিতে আলোচনা করব যে বাজিগর/বাজরিগার পাখির জন্য কিভাবে সফট ফুড বানানো যায়। সো ভিউয়ারস মনোযোগ সহকারে আমাদের আজকের ব্লগ পোস্টটি দেখুন ও পড়ুন।

ভিউয়ারস আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা পাখিকে সফট ফুড দেওয়ার গুরুত সম্পর্কে জানেই না। তাদের জন্য বলে দেই যে পাখিরা অনেক সময় দানাদার খাবার খেতে খেতে অতিস্ট হয়ে পরে তখন তারা আর এই দানাদার খাবার গুলো খেতে পছন্দ করে না যার ফলে তখন পাখিরা আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পরে।

আবার অনেক সময় পাখিরা যখন ব্রিডিং করে তখন পাখির শরীর টাইট হয়ে থাকে আর এই সফট ফুড পাখিকে খেতে দিলে এটি পাখির শরীরকে আস্তে আস্তে ঢিলা করে দেয় যার কারনে পাখিদের ডিম পারতে অনেক সুবিধা/সহজ হয়। পাখির শরীর টাইট হলে পাখিদের Egg Binding/এগ-বাইন্ডিং জনিত সমস্যা হয় তাই পাখিকে ব্রিডিং-এ দেওয়ার আগে পাখিকে সফট ফুড দেওয়া হয়।

আবার পাখির ভিটামিন জনিত সমস্যা দূর করার জন্যও মাঝে মাঝে বাজ্রিগর পাখিকে সফট ফুড খেতে দেওয়া হয়। আর সফট ফুড সকল ধরণের শাক-সবজি, ফলমূল, ডিম সবকিছুর সংমিশ্রণে বানানো হয় যা পাখির জন্য ভিটামিনের সরাসরি একটা উৎস। সফট ফুড দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে এটি খাওয়া ফলে পাখির শরীর এর সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ভিটামিনের চাহিদা সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং পাখির অনুরবর ডিম এর সমস্যাও সমাধান হয়ে যায়।

এখন আমি আপনাদেরকে বলবো কিভাবে পাখির জন্য সফট ফুড বানানো যায়ঃ আমাদের মাঝে অনেক লোকেই পাখি পালে তাই এক এক জন এক এক ভাবে সফট ফুড বানায় তাই আজকে আমরা বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি ও ফলমূল এই দুই ধরণের সফট ফুড বানানো শিখবো।

সফট ফুড বানানোর পদ্ধতিঃ

সফট-ফুড বানানোর জন্য সবার আগেই আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো সিদ্ধ ডিম। কারণ সিদ্ধ ডিম পাখির জন্য ডাইরেক্ট ক্যালসিয়াম এর উৎস। পাখিকে ডাইরেক্ট ক্যালসিয়াম দেওয়ার জন্য অনেকেই আছে যারা ডিমকে খালি সিদ্ধ করেই পাখিকে ছোলা সহ খেতে দেয় এই ধরণের খাবার কে আমরা Egg Food/এগ ফুড বলে থাকি। তাই ডিমটি আমাদের সফট ফুড এর জন্য অবশ্যই খুব গুরুতপূর্ণ তাই সফট ফুড বানানোর জন্য ডিমটিকে ভালোভাবে সিদ্ধ করতে হবে।

তারপর আমাদের সফট-ফুড বানানোর জন্য দরকার ফ্রেস ভেজিটেবল বা সবজি। আপনারা চাইলে যেকোনো সবজি নিতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদেরকে কিছু ভিটামিনে পরিপূরণ সবজি সাজেস্ট করবো জেমনঃ গাজর, কলমি-শাঁক, পালং-শাঁক, ছোলা ও ভুট্টা। এগুলো পাখির শরীরে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন জোগান দেয় যার ফলে পাখির ভিটামিন এর কোন ধরণের সমস্যা হয় না। এই সবজি গুলোকে ছোট ছোট করে কেটে ডিমের সাথে মিক্স করে পাখিকে দিতে হবে। আর এই খাবার পাখির খাঁচাতে ৫-৬ ঘন্টার বেশি রাখা যাবে না নইলে সফট-ফুড থেকে বাসি বাসি গন্ধ বের হবে। তাই পাখিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সফট-ফুড দিতে হবে।  

ভিউয়ারস এখন আমরা শিখবো কিভাবে ফলমূল দিয়ে এই সফট-ফুড বানানো যায়। ফলমূল দিয়ে সফট-ফুড বানাতে হলে সবার আগে আমাদেরকে কিছু উচ্চমত্রায় ভিটামিন পাওয়া যায় এমন সব ফলমূল বেছে নিতে হবে যেমনঃ আপেল, কমলা, কলা, পেয়ারা, পাঁকা-পেপে, আম ইত্যাদি দিয়ে পাখিকে ভালো মানের মিক্স ভিজিটেবল সফট ফুড বানিয়ে দেওয়া যায়। আপনারা চাইলে এর সাথে সিদ্ধ ডিমও মিক্স করতে পারেন কিন্তু এটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। এই ফলগুলো পাখিকে ছোট ছোট টুকরায় কেটে কেটে দিতে হবে নইলে পাখি খেতে পারবেনা। এই খাবারটাও পাখির খাঁচায় ৫-৬ ঘণ্টা রাখতে হবে নইলে এর থেকে দুরগন্ধ বের হবে।

সাধারণত আমরা যখন ৩/৪ টা সবজির সাথে ডিম মিক্স করে পাখিকে দেই তখন পাখির খাবারটা নরম হয়ে যায় তার ফলে খাবারটাকে সফট-ফুড বলে। কিন্তু এই সফট-ফুড আবার পাখিকে সবসময় দেওয়া যাবে না সপ্তাহে ২/৩ দিন করে দিলে ভালো হয় আবার পাখিকে সপ্তাহে এক দিন করে এগ-ফুড দিলেও হয়। যদি আপনি পাখিকে রেগুলার সফট ফুড দেন তাহলে পাখির পেটে সমস্যা হতে পারে যেমনঃ ডায়রিয়া, কলেরা, পাতলা-পায়খানা ইত্যাদি। আবার বেশি সবজি খাওয়ার ফলেও পাখির ডায়রিয়া হতে পারে তাই হিসাব করে শাঁক-সবজি খেতে দিতে হবে।

আমাদের আজকের ব্লগ-পোস্টটি এতুটুকুই আর এই বিষয়ে আরও জানতে আমাদের যাচ্ছেতাই ইউটিউব চ্যানেলটি ও ফেসবুক পেজটিও ভিসিট করতে পারেন আরও আপনি চাইলে আমাদের আরও অন্যান্য ব্লগ-পোস্ট গুলোও পড়তে পারেন।

Leave a comment